লিবিয়া থেকে সাগরপথে ইউরোপ ‘গেইম’
ভূমধ্যসাগরে সুনামগঞ্জের ১০ যুবকের সলিল সমাধি
ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জের ১০ যুবকের মৃত্যুর খবরে এলাকায় চলছে শোকের মাতম। নিহতের স্বজনরা বিভিন্ন মাধ্যমে মৃত্যুর খবর জেনে হতবিহবল।
সর্বশেষ তথ্যনুযায়ী নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে এখন পর্যন্ত সুনামগঞ্জের ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে দিরাই উপজেলার চারজন, দোয়ারাবাজার উপজেলার একজন এবং জগন্নাথপুর উপজেলার পাঁচজন।
নিহতদের মধ্যে রয়েছে দিরাই উপজেলার তারাপাশা গ্রামের আবু সরদারের ছেলে নুরুজ্জামান ময়না (৩৮), আব্দুল গনির ছেলে সাজিদুর রহমান (৩২), মৃত কারী ইসলাম উদ্দিনের ছেলে শাহান এহিয়া (২৫) ও উপজেলার রনারচর গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে মুজিবুর রহমান (৪৫)। দোয়ারাবাজার উপজেলার কবিরনগর গ্রামের ফয়েজ উদ্দিনের ছেলে ফাহিম আহমেদ মুন্না (২০)।
এছাড়া জগন্নাথপুর উপজেলার পাঁচজনের মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে। তারা হলেন- উপজেলার বাউরি গ্রামের মো. সুহানূর রহমান, টিয়ারগাওয়ের শায়েখ আহমেদ ও মো. আলি, কবিরপুর গ্রামের মো. নাঈম, পাইলগাওয়ের আমিনুর রহমান, মো. আলি।
লিবিয়া থেকে ইউরোপের দেশ গ্রিসে যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে অন্তত ২২ অভিবাসন প্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। তবে একই নৌকা থেকে ২৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। যার মধ্যে ২১ জনই বাংলাদেশি।
শুক্রবার ভোরে ক্রিট দ্বীপের কাছে ইউরোপীয় সীমান্ত সংস্থার একটি জাহাজ এক নারী ও এক শিশুসহ ২৬ জনকে উদ্ধার করে।
পরে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের তথ্যে জানা যায়, নিহতদের মধ্যে অনেকের মরদেহ সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
নিহত চারজনের পরিবার সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় দালাল চক্রের মাধ্যমে গত রমজানে লিবিয়ার উদ্দেশে বাড়ি ছাড়েন তারাপাশা গ্রামের চার যুবক। এর মধ্যে লিবিয়া থেকে নৌকাযোগে গ্রিস যাওয়ার পথে দুর্ঘটনায় তাদের তিনজনের মৃত্যু হয়।
এদিকে দোয়ারাবাজারের ফাহিম তার বাবা কাছে সৌদি আরব থেকেই পাড়ি জমান লিবিয়াতে। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন ২১ জন বাংলাদেশি, চারজন দক্ষিণ সুদানের নাগরিক এবং একজন চাদের নাগরিক।
তাদের মধ্যে দু’জনকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ক্রিটের হেরাক্লিয়ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

