২০২৬ সালে ওয়ার্কিং ভিসার জন্য কোন দেশগুলো সেরা?

২০২৬ সালে ওয়ার্কিং ভিসার জন্য কোন দেশগুলো সেরা?

বিদেশে চাকরি, উন্নত জীবনমান ও নতুন ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন এখন আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় বেশি মানুষের মধ্যে দেখা যাচ্ছে। সেই বাস্তবতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ দক্ষ কর্মী, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, উদ্যোক্তা ও অস্থায়ী কর্মীদের আকর্ষণ করতে সহজ ওয়ার্ক ভিসা নীতি চালু করছে।

২০২৬ সালের জন্য প্রকাশিত নতুন বৈশ্বিক র‌্যাঙ্কিংয়ে এমন কয়েকটি দেশের নাম উঠে এসেছে, যেগুলো বিদেশিদের জন্য তুলনামূলক সহজ ওয়ার্ক ভিসা প্রক্রিয়া, উচ্চ জীবনমান, কাজ-জীবনের ভারসাম্য ও অভিবাসীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করছে।

তালিকায় থাকা দেশগুলো শুধু স্বল্পমেয়াদি মৌসুমি চাকরির সুযোগই নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ার গঠন, স্থায়ী বসবাস ও উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগও দিচ্ছে।

আসুন দেশগুলোর নাম ও সুযোগ-সুবিধা জেনে নিই-

অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড

এই দুই দেশে আতিথেয়তা, পর্যটন ও সেবাখাতে সবচেয়ে বেশি চাকরির সুযোগ পাওয়া যায়। দেশ দুটি দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জনপ্রিয় গন্তব্য। তাদের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি সহজ ওয়ার্ক ভিসা নীতিও এর অন্যতম কারণ।

তরুণ কর্মীদের জন্য বড় সুযোগ। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের ‘ওয়ার্কিং হলিডে ভিসা’ চালু রেখেছে। এসব ভিসার মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১২ মাস পর্যন্ত কাজ করার সুযোগ পাওয়া যায়।

ওয়ার্কিং হলিডে ভিসা এমন এক ভিসা, যার আওতায় ভ্রমণের পাশাপাশি খণ্ডকালীন কাজ করে নিজেদের খরচ চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়।

অস্ট্রেলিয়ায় দক্ষ ও উচ্চ দক্ষ কর্মীদের জন্য পয়েন্টভিত্তিক অভিবাসন ব্যবস্থা চালু রয়েছে, যা প্রকৌশলসহ বিভিন্ন পেশার কর্মীদের জন্য দেশটিকে অন্যতম সহজ অভিবাসন গন্তব্যে পরিণত করেছে।

বিজ্ঞাপন

উন্নত স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রযুক্তি ও চিকিৎসা খাতের শক্তিশালী অর্থনীতি অস্ট্রেলিয়াকে অভিবাসীদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। বিশেষ করে ইংরেজিভাষী দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য ভাষা ও সংস্কৃতিগত মিল বড় সুবিধা হিসেবে কাজ করে।

এদিকে, যেসব শিক্ষার্থী নিউজিল্যান্ড থেকে ডিগ্রি সম্পন্ন করেন, তারা ‘পোস্ট স্টাডি ওয়ার্ক ভিসা’র জন্য আবেদন করতে পারেন। এই ভিসার মাধ্যমে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত কাজের সুযোগ পাওয়া যায়।

সম্প্রতি দেশটি আরও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী আকর্ষণে ছয় মাসের স্বল্পমেয়াদি ওয়ার্ক ভিসার সুযোগও চালু করেছে। যারা পোস্ট-স্টাডি ভিসার যোগ্য নন, তারা ‘অ্যাক্রিডিটেড ইমপ্লয়ার ওয়ার্ক ভিসা’র মাধ্যমে চাকরির সুযোগ খুঁজতে পারেন।

এছাড়া দক্ষ কর্মীদের জন্য রয়েছে ‘দক্ষ অভিবাসী ভিসা’, যা পয়েন্টভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের সুযোগ দেয়।

উদ্যোক্তাদের জন্য ‘অন্ট্রাপ্রেনিউর ওয়ার্ক ভিসা’ও রয়েছে। এর মাধ্যমে তিন বছর পর্যন্ত ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ পাওয়া যায়। আবেদনকারীর ব্যবসা পরিকল্পনা, বিনিয়োগ সক্ষমতা এবং নির্দিষ্ট পয়েন্ট অর্জনের শর্ত পূরণ করতে হয়।

কানাডা

কানাডা দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বের সবচেয়ে অভিবাসীবান্ধব দেশগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত। দেশটির ‘এক্সপ্রেস এন্ট্রি’ কর্মসূচি দক্ষ পেশাজীবী, উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করে।

প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও প্রাকৃতিক সম্পদ খাতে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে সেখানে।

দেশটির বহুসাংস্কৃতিক পরিবেশ নতুন অভিবাসীদের সহজে মানিয়ে নিতে সহায়তা করে। এছাড়া উচ্চমানের স্বাস্থ্যসেবা, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং উন্নত জীবনমান কানাডাকে আরও জনপ্রিয় করেছে।

ওয়ার্ক পারমিট ও স্টার্টআপ ভিসাসহ বিভিন্ন ভিসা কর্মসূচিও দেশটিকে বিশ্বের অন্যতম সহজ অভিবাসন গন্তব্যে পরিণত করেছে।

জার্মানি: কম খরচে ইউরোপের শক্তিশালী চাকরির বাজার

জার্মানির রয়েছে ইউরোপের সবচেয়ে বড় দক্ষ শ্রমবাজার, যেখানে প্রায় ৪ কোটি ২০ লাখ কর্মী রয়েছে। দেশটির বহুসাংস্কৃতিক চাকরির বাজার অভিবাসীদের জন্য উন্মুক্ত। এছাড়া দেশটির ভিসা আবেদন খরচ তুলনামূলক কম হওয়াও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সুবিধা।

নতুন ‘অপরচুনিটি কার্ড’ কর্মসূচির মাধ্যমে চাকরির অফার ছাড়াই বিদেশিরা জার্মানিতে গিয়ে চাকরি খুঁজতে পারেন। এছাড়া চাকরির অফার, ফ্রিল্যান্সিং, স্বনিয়োজিত কাজ, ‘অ পেয়ার’ প্রোগ্রাম ও তরুণদের জন্য ‘ওয়ার্কিং হলিডে ভিসা’ রয়েছে।

জার্মানিতে প্রযুক্তি ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে সবচেয়ে বেশি চাকরির সুযোগ পাওয়া যায়। দেশটিতে শিল্পী ও সৃজনশীল পেশাজীবীদের জন্যও বিশেষ ভিসা রয়েছে।

জার্মানি দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ জনশক্তির জন্য ইউরোপের অন্যতম বড় গন্তব্য। ডিগ্রি সম্পন্নের পর শিক্ষার্থীরা ১৮ মাসের রেসিডেন্স পারমিট পান, যার মাধ্যমে তারা চাকরি খুঁজতে ও কাজ করতে পারেন।

এরপর যোগ্যরা ‘ইইউ ব্লু কার্ড’- এর জন্য আবেদন করতে পারেন। এটি ইউরোপের অন্যতম জনপ্রিয় ওয়ার্ক পারমিট, যা উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীদের জন্য চালু রয়েছে।

এই কার্ডধারীরা জার্মান নাগরিকদের মতোই কাজের অধিকার পান এবং শেনজেন অঞ্চলে চলাচলের সুবিধাও উপভোগ করেন।

ফ্রান্স: পরিবারসহ বসবাসের সুযোগ

বিশ্বখ্যাত ইউরোপীয় গন্তব্য ফ্রান্স বিদেশিদের জন্য সহজ অভিবাসন নীতির কারণে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। ৯০ দিনের কম সময়ের কাজের জন্য দেশটিতে স্বল্পমেয়াদি ওয়ার্ক ভিসা রয়েছে।

‘অস্থায়ী কর্মী’ ভিসার মাধ্যমে দেশটিতে এক বছর পর্যন্ত ওয়ার্কিং হলিডে করা যায়। এসব কর্মসূচির জন্য বৈধ চাকরির চুক্তি প্রয়োজন হয়।

ফ্রান্সের বড় সুবিধাগুলোর একটি হলো- দেশটি পরিবারের সদস্যদের জন্যও সহজ রেসিডেন্স ও ওয়ার্ক পারমিট দেয়।

সুইডেন: সামাজিক নিরাপত্তা ও উদ্ভাবনের দেশ

সুইডেন সমতা, পরিবেশ সচেতনতা ও উদ্ভাবনী অর্থনীতির জন্য পরিচিত। প্রযুক্তি ও প্রকৌশল খাতে সেখানে দক্ষ কর্মীদের চাহিদা বেশি। দেশটিতে নিয়োগকর্তারাই সাধারণত ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে থাকে।

নেদারল্যান্ডস: কাজ ও জীবনের ভারসাম্যের জন্য জনপ্রিয়

উন্নত জীবনযাত্রা ও কাজ-জীবনের ভারসাম্যের কারণে নেদারল্যান্ডস আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

দেশটিতে ‘অরিয়েন্টেশন ভিসা’র মাধ্যমে ডিগ্রি শেষে এক বছর পর্যন্ত কোনো বড় বিধিনিষেধ ছাড়াই কাজের সুযোগ পাওয়া যায়। এই সময়ে শিক্ষার্থীরা চাকরি, ইন্টার্নশিপ, ফ্রিল্যান্সিং বা নিজস্ব ব্যবসাও করতে পারেন। পরে তারা ‘ইইউ ব্লু কার্ড’ বা ‘হাইলি স্কিলড মাইগ্র্যান্ট ভিসা’র জন্য আবেদন করতে পারেন।

এদিকে, প্রযুক্তি ও প্রকৌশল খাতে শক্তিশালী চাকরির বাজারের কারণে নেদারল্যান্ডস অভিবাসীদের কাছে জনপ্রিয়। অরিয়েন্টেশন ইয়ার ভিসা’র মাধ্যমে স্নাতক শিক্ষার্থীরা এক বছর পর্যন্ত কাজ করতে পারেন।

উদ্যোক্তাদের জন্য ডাচ আমেরিকান ফ্রেন্ডশিপ ট্রিটি (ডাফ্ট) বিশেষ সুবিধা দেয়।

আয়ারল্যান্ড: ইউরোপে কাজের সহজ পথ ও ৯৫ শতাংশ ভিসা অনুমোদন হার

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আয়ারল্যান্ড এখন দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। দেশটি প্রযুক্তি কোম্পানি ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের বড় কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ভিসায় বয়সসীমা না থাকায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও নতুন স্নাতকদের জন্য এটি আকর্ষণীয়। 

আইরিশ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীরা ‘থার্ড লেভেল গ্রাজুয়েট প্রোগ্রাম’- এর আওতায় এক বছর পর্যন্ত দেশে থেকে চাকরি খুঁজতে পারেন।

এরপর দীর্ঘমেয়াদি থাকার জন্য বিভিন্ন ধরনের ‘ইমপ্লয়মেন্ট পারমিট ’ পাওয়া যায়। এর মধ্যে ‘ক্রিটিকাল স্কিলস ইমপ্লয়মেন্ট পারমিট ’ সবচেয়ে জনপ্রিয়। ডাবলিন, লিমেরিক ও কর্ক শহরে প্রযুক্তি, ওষুধশিল্প, শিক্ষা ও আতিথেয়তা খাতে সবচেয়ে বেশি চাকরির সুযোগ রয়েছে।

আয়ারল্যান্ড দক্ষ কর্মীদের জন্যও সবচেয়ে সহজ অভিবাসন গন্তব্যগুলোর একটি। দেশটির কর্মসংস্থান ভিসার অনুমোদনের হার প্রায় ৯৫ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত থাকার সুযোগ দেয়।

২০২৪ সালে আয়ারল্যান্ড রেকর্ডসংখ্যক কর্মসংস্থান অনুমতি দিয়েছে, যা দেশটির শ্রমবাজারে আন্তর্জাতিক কর্মীদের চাহিদার ইঙ্গিত দেয়।

আইসল্যান্ড: উচ্চ বেতন এবং কাজ ও জীবনের ভারসাম্য

আইসল্যান্ড এখন উচ্চ দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠছে। ওয়ার্ক পারমিট পেতে দেশটির কোনো প্রতিষ্ঠানের চাকরির চুক্তি প্রয়োজন হয়।

দেশটিতে বিশেষজ্ঞ জ্ঞান, শ্রমঘাটতি ও পরিবার পুনর্মিলনের জন্য বিভিন্ন ধরনের অস্থায়ী ওয়ার্ক পারমিট রয়েছে।

উচ্চ গড় বেতন, নমনীয় কর্মঘণ্টা ও কাজ-জীবনের ভারসাম্য দেশটিকে আলাদা করেছে।

লুক্সেমবার্গ: ইউরোপের সর্বোচ্চ ন্যূনতম বেতন

লুক্সেমবার্গে ওয়ার্ক ভিসা পাওয়া তুলনামূলক সহজ। দেশটিতে ইউরোপের সর্বোচ্চ ন্যূনতম মজুরি বা বেতন এবং সবচেয়ে কম বেকারত্বের হার রয়েছে।

দেশটির আইন অনুযায়ী- দক্ষ বা যোগ্যতাসম্পন্ন কর্মীদের জন্য সর্বোচ্চ ন্যূনতম মাসিক মজুরি ২,৭০৪ থেকে ৩,১৬৫ ইউরোর মধ্যে রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের ধরন ও দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে এই ন্যূনতম মজুরির হার নির্ধারণ করা হয়।

লুক্সেমবার্গে স্বল্পমেয়াদি শেনজেন ভিসা, দীর্ঘমেয়াদি ন্যাশনাল ভিসা ও ইইউ ব্লু কার্ড- এসব ভিসায় কাজের সুযোগ রয়েছে।

মাল্টা: কর সুবিধা ও ভূমধ্যসাগরীয় জীবনধারা

সহজ অভিবাসন নীতি ও কর সুবিধার কারণে মাল্টা দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে। গেমিং ও ফাইন্যান্স খাতে সেখানে প্রচুর চাকরির সুযোগ রয়েছে।

দেশটিতে নাগরিকত্ব বিনিয়োগ কর্মসূচিও চালু রয়েছে।

চেচিয়া (পূর্বে চেক প্রজাতন্ত্র)

চেক প্রজাতন্ত্র হলো ইউরোপের উদীয়মান চাকরির বাজার। দেশটি আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী ও চাকরিপ্রার্থীদের কাছে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

ইউরোপের কৌশলগত অবস্থান ও ক্রমবর্ধমান অর্থনীতি দেশটিকে বিদেশি কর্মীদের জন্য আকর্ষণীয় করেছে।

দেশটিতে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মী পাওয়া যায়, যা আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর কাছে বড় সুবিধা।

চেক প্রজাতন্ত্রে বিভিন্ন ধরনের ওয়ার্ক ভিসা রয়েছে। এর মধ্যে ‘ইমপ্লয়ি কার্ড’ নির্দিষ্ট চাকরির জন্য, ‘ইউ ব্লু কার্ড’ বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতকদের জন্য, ‘ইন্ট্রা কোম্পানি ইমপ্লয়ি ট্রান্সফার কার্ড’ অভ্যন্তরীণ কোম্পানি বদলির জন্য ও উদ্যোক্তাদের জন্য ‘লং ট্রাম্প বিজনেস ভিসা’ উল্লেখযোগ্য।

প্রাগের মতো বড় শহরগুলোতে আতিথেয়তা, তথ্যপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা খাতে আন্তর্জাতিক কর্মীদের চাহিদা বেশি। দেশটিতে চাকরির ভিসা পেতে আগে থেকেই চাকরি নিশ্চিত করা ভালো হলেও পর্যটক ভিসায় গিয়েও কিছু সুযোগ পাওয়া যায়।

এস্তোনিয়া: ডিজিটাল নোম্যাডদের নতুন কেন্দ্র

ইউরোপের ছোট উপকূলীয় দেশ এস্তোনিয়া ইউরোপের সবচেয়ে সহজ ওয়ার্ক ভিসা পাওয়া দেশগুলোর একটি হিসেবে উঠে এসেছে। দেশটিতে ভিসা অনুমোদনের হার প্রায় ৮৭ শতাংশ।

ডিজিটাল নোম্যাডদের কাছে দেশটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, কারণ এখানে প্রযুক্তি ও আধুনিক প্রশাসনিক ব্যবস্থার সমন্বয় রয়েছে।

স্বল্পমেয়াদি কাজের জন্য ‘টাইপ ডি ভিসা’ সবচেয়ে সহজ পথ হিসেবে বিবেচিত হয়। দীর্ঘমেয়াদি রেসিডেন্স পারমিট পেতে আবেদনকারীর নিবন্ধিত নিয়োগকর্তা, বৈধ চাকরির চুক্তি এবং সুস্থতার মেডিকেল প্রমাণ থাকতে হয়।

লাটভিয়া: মাত্র ১০ দিনে প্রসেসিং

বাল্টিক অঞ্চলের দেশ লাটভিয়ার অর্থনীতি দ্রুত বাড়ছে ও আন্তর্জাতিক ব্যবসা আকর্ষণ করছে।

বিদেশিদের সেখানে কাজ করতে রেসিডেন্স পারমিট, টাইপ ডি ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিট প্রয়োজন হয়। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নাগরিকদের আলাদা ওয়ার্ক পারমিট লাগে না।

সবচেয়ে বড় বিষয় হলো- দেশটিতে ভিসা প্রসেসিংয়ের গড় সময় মাত্র ১০ দিন।

লিথুয়ানিয়া: দক্ষ কর্মীদের জন্য সহজ পথ

লিথুয়ানিয়ায় যেতে প্রথমে স্থানীয় নিয়োগকর্তার চাকরির অফার প্রয়োজন হয়। এরপর নিয়োগকর্তা শ্রম দপ্তরের মাধ্যমে ওয়ার্ক পারমিট আবেদন করেন।

উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীদের ক্ষেত্রে কখনো কখনো ওয়ার্ক পারমিট ছাড়াই কাজের সুযোগ পাওয়া যায়।

স্লোভাকিয়া: বাড়ছে অর্থনীতি, বাড়ছে সুযোগ

স্লোভাকিয়ার অর্থনীতি দ্রুত বাড়ছে ও চাকরিপ্রার্থীদের কাছে দেশটি আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। দেশটিতে ‘সিঙ্গেল পারমিট’- এর মাধ্যমে বসবাস ও কাজের অনুমতি একসঙ্গে পাওয়া যায়।

সিঙ্গাপুর: এশিয়ার ব্যবসা কেন্দ্র ও দক্ষ কর্মীদের স্বর্গ

এশিয়ার অন্যতম বড় ব্যবসাকেন্দ্র সিঙ্গাপুর আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্যও আকর্ষণীয় গন্তব্য। দেশটির শীর্ষ ব্যবসায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বহুজাতিক কোম্পানির উপস্থিতি শিক্ষার্থীদের চাকরির সুযোগ বাড়ায়।

সিঙ্গাপুরে পড়াশোনা শেষে শিক্ষার্থীরা প্রথমে ‘শর্ট টার্ম ভিসিট পাস’ নিয়ে অতিরিক্ত ৩০ থেকে ৮৯ দিন থাকতে পারেন। পরে যোগ্যরা ‘লং টার্ম ভিসিট পাস’ পেয়ে দুই বছর পর্যন্ত থাকার সুযোগ পান।

চাকরি পেলে ‘ইমপ্লয়মেন্ট পাস’ পাওয়া যায়, যা মূলত উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন পেশাজীবীদের জন্য। এর জন্য ন্যূনতম মাসিক বেতন নির্ধারিত রয়েছে।

মাঝারি দক্ষ কর্মীদের জন্য রয়েছে ‘এস পাস’। এছাড়া উদ্যোক্তাদের জন্য ‘অন্ট্রেপাস’ চালু রয়েছে, যা উদ্ভাবনী প্রযুক্তি বা স্টার্টআপ ব্যবসার সঙ্গে যুক্তদের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী।

দক্ষিণ কোরিয়া: উচ্চ বেতনের চাকরির সুযোগ

দক্ষিণ কোরিয়া এশিয়ায় উচ্চ বেতনের চাকরির জন্য পরিচিত।

বিশেষ করে ইংরেজি শিক্ষকদের জন্য ই-২ ভিসা অত্যন্ত জনপ্রিয়। এছাড়া ওয়ার্কিং হলিডে ভিসা ও চাকরি অনুসন্ধান ভিসাও রয়েছে।

ইকুয়েডর: মাত্র ৪০০ ডলারে পেশাজীবী ভিসা

লাতিন আমেরিকার দেশ ইকুয়েডরকে সবচেয়ে সহজ ওয়ার্ক ভিসা পাওয়া দেশগুলোর একটি বলা হচ্ছে। দেশটির প্রশান্ত মহাসাগরীয় সৈকত, আন্দিজ পর্বতমালা ও আমাজন অরণ্য ভৌগোলিক বৈচিত্র্যের জন্য পরিচিত।

মাত্র একটি ব্যাচেলর ডিগ্রি ও ৪০০ ডলার থাকলেই ‘প্রোফেশনাল ভিসা’ পাওয়া যায়, যা ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজের সুযোগ দেয়।

আন্তর্জাতিক কোম্পানি, পর্যটন খাত ও এনজিওগুলোতে বিদেশি কর্মীদের জন্য চাকরির সুযোগ রয়েছে।

তালিকায় আরও কয়েকটি দেশের নাম উল্লেখ করা যায়। আর সেগুলো হলো- সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), ফিনল্যান্ড, পর্তুগাল এবং ফিনল্যান্ড ও নরওয়ে (দক্ষ ও অতি দক্ষ কর্মীদের জন্য)