সিলেট সীমান্তে ভারতে পাচারের প্রস্তুতি, নারীসহ আটক ৭
সিলেট গোয়াইনঘাটে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে ভারতে পাঠানোর প্রস্তুতিকালে দুই নারীসহ সাত বাংলাদেশিকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের নলজুরি বড়ইতলা গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন- বাগেরহাটের বকুলতলা গ্রামের হাবিব হাওলাদারের ছেলে মো. সাইফুল (২১), খুলনার দিগলদিয়া থানার বাগমারা গ্রামের হুমায়ুন শিকদারের ছেলে মো. রাব্বি শিকদার (১৭), কাজিগঞ্জ মোগলা গ্রামের রিয়াদুলের ছেলে মো. কাউছার (১৬), বাগেরহাটের বকুলতলা গ্রামের বাবুল মোল্লার ছেলে মো. ওমর ফারুক (১৮), মোড়লগঞ্জ থানার নিশানবাড়িয়া গ্রামের মো. আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে মো. পারভেজ হাসান (২১), নড়াইলের কালিয়া উপজেলার ভমবাগ গ্রামের সুরত আলীর মেয়ে শম্পা (২৪) এবং ঢাকার যাত্রাবাড়ী সুতারপুর গ্রামের আব্দুল জলিলের মেয়ে মুন্নি (১৬)।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অজ্ঞাত এক দালালের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাদের সিলেটের জাফলং এলাকায় নিয়ে আসা হয়। তাদের মধ্যে দুই নারীকে ভারতে বাসাবাড়িতে মাসিক ৫০ হাজার টাকা এবং পাঁচ যুবককে বিভিন্ন কোম্পানিতে মাসিক ৩৫ হাজার টাকা বেতনে চাকরি দেওয়ার কথা বলা হয়।
পরবর্তীতে মিজান নামের এক ব্যক্তি তাদের নলজুরি বড়ইতলা গ্রামের আব্দুল মান্নানের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থান করে তারা অবৈধ পথে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিষয়টি জানতে পেরে গোয়াইনঘাট থানার তামাবিল পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. আলী সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ওই এলাকায় অভিযান চালান। এ সময় দুই নারীসহ সাতজনকে আটক করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে আটককৃতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা দায়ের করা হয়। বুধবার দুপুরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে আটক সাতজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক বলেন, উচ্চ বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের উদ্দেশে ওই সাতজন নলজুরি বড়ইতলা এলাকায় অবস্থান করছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত দালালদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।

